স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের দুর্দশা কেন ?

0 0
Read Time:19 Minute, 5 Second

দ্যা ডেইলি নিউজ / ID/19 06 2020/TDNB/000107

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠছে৷ পথে ঘুরতে ঘুরতে মারা যাচ্ছেন রোগী৷ হাসপাতালে ঠাঁই মিলছে না৷ কেন স্বাস্থ্যখাতের এই বেহাল দশা?

ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের উপদেষ্টা ডা. আব্দুন নূর তুষার বলেছেন, আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে কোন লক্ষ্য কখনই ছিলো না, এখনো নেই৷ আমরা শুধু বিভিন্ন জনের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করছি৷ এই কারণে সিস্টেমটা জগাখিচুড়িতে পরিণত হয়েছে৷

ডয়চে ভেলে : স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও কেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের এই করুণ দশা?

ডা. আব্দুন নূর তুষার : আমাদের স্বাস্থ্যখাত কখনই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত হয়নি৷ স্বাস্থ্যখাতে মৌলিক লক্ষ্যগুলো নির্দিষ্ট করতে না পারার ফলে একটা জগাখিচুড়িতে পরিণত হয়েছে৷ এ দেশে বেসরকারি খাতে উচ্চমূল্যের হাসপাতাল যেমন আছে, তেমনি সরকারি খাতে প্রায় ফ্রি হাসপাতালও আছে৷ এখানে যেমন সরকার বিনামূল্যে ওষুধ দেয়, আবার অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা বেসরকারি জায়গা থেকে করতে হয়৷ অর্থাৎ এখানে সিস্টেমটা অনেকটা খিচুড়ির মতো৷ সরকারি, বেসরকারি, আধাসরকারি, এনজিও সবকিছু মিলিয়ে এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আপনাকে সেবা পেতে গেলে বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়৷ এই কারণে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই বেহাল অবস্থা৷

এই অবস্থার জন্য আপনি কাদের দায়ী করবেন?

এই অবস্থার জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক এবং বিভিন্ন সময় যারা স্বাস্থ্যকে নিয়ে কাজ করেছেন আমি তাদের দায়ী করবো৷ তারা এডহক ভিত্তিতে অর্থাৎ দিন এনে দিন খায় ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকে পরিচালিত করেছে৷ টিকা দিতে হবে তাই টিকা দাও, পোলিও থামাতে হতে তাই থামাও, ভিটামিন খাওয়াতে হবে তাই খাওয়াও অর্থাৎ আমরা বিভিন্ন জায়গার প্রেসক্রিপশনকে শুধু ফলো করেছি৷ আমাদের নিজেদের কোন স্বাস্থ্য বিষয়ক লক্ষ্য ছিলো না এবং এখনো নেই৷

ডা. আব্দুন নূর তুষার
করোনা চিকিৎসায় আমরা সফল না ব্যর্থ?

করোনা চিকিৎসায় আমরা সফল৷ কারণ আমাদের যে উপকরণ আছে, অর্থাৎ যন্ত্রপাতি, অক্সিজেন বা ভেন্টিলেটরসহ যে সব উপকরণ আছে এবং তার যে সরবরাহ আছে সেই তুলনায় আমাদের হাসপাতালগুলোতে মৃত্যুর হার অনেক কম৷ আমি বলবো যে, আমাদের চিকিৎসকরা এই স্বল্প সুবিধার মধ্যে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সফলতা দেখাচ্ছেন৷ কিন্তু যেটা সমস্যা সেটা হল, জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে অধিক সংখ্যক মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মতো সক্ষমতা আসলে আমাদের হাসপাতালগুলোর নেই৷ আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা এত রোগীকে একসঙ্গে চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা রাখে না৷

 

প্রথমদিকে তো চিকিৎসকদের কাছে সুরক্ষা সামগ্রী ঠিকমতো পৌঁছেনি, আপনি নিজেও অভিযোগ করেছেন৷ এখন কি অবস্থা?

পুরো বাংলাদেশেই আসলে সুরক্ষা সামগ্রীর অভাব ছিল৷ এটা বুঝতে পেরে আমরা কথা বলেছিলাম এই জন্য যে, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী যারা আছেন তাদেরকে সুরক্ষা দিতে না পারলে জনগণ সমস্যায় পড়বে৷ জনগণ সেবা পাবে না৷ আপনি যার কাছ থেকে সেবা পাবেন তাকে যদি সুরক্ষা দিতে না পারেন তাহলে সে তো সেবা দিতে পারবে না৷ আমি বলবো যে, আমরা বলবার পর অনেকখানি এগিয়েছে৷ তারপরও বাজারে বহু ভেজাল সুরক্ষা সামগ্রী আছে৷ সঠিক সুরক্ষা সামগ্রীর অভাব এখনো আছে৷

চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও করছেন অনেকে৷ বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রথমদিকে কোন সেবাই দেননি?

এই কথাটা আসলে সর্বাঙ্গে সত্য নয়৷ আমাদের বুঝতে হবে যে, আমাদের বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ছোঁয়াচে রোগের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা নেই৷ সংক্রমিত রোগী আর সংক্রমণহীন রোগী আলাদা করার ব্যবস্থা অধিকাংশ হাসপাতালে নেই৷ কারণ হাসপাতালগুলো ভাড়া বাসায় বা অন্য কাজে তৈরি এমন ভবনে স্থাপিত৷ ফলে সংক্রমিত রোগী ভর্তি করলে সংক্রমণহীন রোগীর অনেক বেশি মৃত্যু হওয়ার বা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল৷ ডাব্লিউএইচও এবং জাতীয় গাইডলাইন মেনেই চিকিৎসকেরা রোগীদের কোভিড হাসপাতালে রেফার করেছেন৷ এটাকেই মানুষ বলেছেন আমরা সেবা পাচ্ছি না৷ তবে অধিকাংশ হাসপাতালে কোন রোগী এলে তিনি সম্ভাব্য কোভিড রোগী কি-না তা আলাদা করার ব্যবস্থা ছিলো না৷ এর একটি বড় কারণ হলো চিকিৎসা খাতে জনবলের অভাব আছে৷ বেসরকারি হাসপাতালগুলো অধিকাংশই অর্ধেক জনবল দিয়ে পরিচালিত হয়৷ তাদের অধিকাংশ ডাক্তারও চুক্তিতে কাজ করেন৷ নিয়োগপত্র পান না৷ আমাদের এই ডাক্তারেরা অনেকেই দৈনিক টাকার ভিত্তিতে কাজ করেন৷ অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল কোভিড আসার সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারদের বেতন কেটে নিয়েছে, চাকরিচ্যুত করেছে এবং অনেককে দীর্ঘ মেয়াদি ছুটি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে৷ এইসব কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে৷ এটা কিন্তু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ত্রুটি৷ চিকিৎসকদের ত্রুটি নয়৷ আমি নাম উল্লেখ না করেই বলি, একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে কোভিড রোগী ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকেরা সুরক্ষা সামগ্রী দাবি করায় তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে, চাকরিচ্যুত করা হয়েছে৷ এমন অসংখ্য প্রমাণ আছে৷ এটা আসলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কোন শৃঙ্খলা না থাকা৷

 

ভালোমন্দের স্বাস্থ্যছবি

জনবল ও অবকাঠামো সংকট
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, একটি দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে যতজন ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল টেকনলজিস্ট, অ্যানেস্থেটিস্ট থাকা আদর্শ সেটি বাংলাদেশে নেই৷ করোনার কারণে সেই সংকট প্রবলভাবে দেখা গেছে৷ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী বলছেন, একজন ডাক্তারের বিপরীতে নার্স থাকতে হয় তিন জন৷ কিন্তু বাংলাদেশে আছে আধা জন৷ এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা দিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবতো আছেই৷

দুর্নীতি
দুর্নীতি দমন কমিশনের তৈরি এক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটা, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহসহ দুর্নীতির ১১টি খাত চিহ্নিত করা হয়৷ বলা হয়, দুর্নীতি করার জন্য অনেক অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা হয়, যা পরিচালনার লোক নেই৷ ওইসব যন্ত্রপাতি কখনোই ব্যবহার করা হয় না৷ প্রতিবেদনটি গতবছর জানুয়ারিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে দেয়া হয়েছিল৷

টিকাদানে সাফল্য
ছয়টি রোগের বিরুদ্ধে লড়তে ১৯৭৯ সালে ‘সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি’ কার্যক্রম শুরু হয়৷ বর্তমানে এটি ১০টি রোগের ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয়েছে৷ সারা দেশে বিনামূল্যে এসব টিকা দেয়া হয়৷ ২০১৮ সালে সব টিকাপ্রাপ্তির হার ছিল ৯৭.৬ শতাংশ৷ টিকাদান কর্মসূচিতে সফলতার জন্য গতবছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কার দিয়েছে ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন এবং ইমিউনাইজেশন’৷

বাজেট বরাদ্দ ও বাস্তবায়নে অক্ষমতা
করোনার কারণে সম্প্রতি পেশ করা বাজেটে গতবছরের চেয়ে এবার স্বাস্থ্যখাতে বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে৷ এবার প্রস্তাবিত ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা জিডিপির ১.৩ ভাগ৷ গতবছর তা ছিল মাত্র ০.৮৯ ভাগ৷ তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বরাদ্দ যেমন প্রয়োজনের তুলনায় কম তেমনি অতীতে দেখা গেছে, বরাদ্দ বাস্তবায়নের হারও কম৷ ফলে স্বাস্থ্যসেবা পেতে মানুষের ভোগান্তি কমছে না৷

গড় আয়ু বেড়েছে
গতবছর জুনে প্রকাশিত এক জরিপে ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’ বা বিবিএস জানায়, বাংলাদেশের মানুষের মোট গড় আয়ু এখন ৭২ বছর ৩ মাস৷ ১৯৬০ সালে গড় আয়ু ৪৬ বছর ছিল বলে ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল৷

শিশুমৃত্যুর হার কমেছে
জনস্বাস্থ্যবিষয়ক দেশের সবচেয়ে বড় জরিপ ‘বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ’ বা বিডিএইচএস৷ সবশেষ জরিপটি হয়েছে ২০১৭-১৮ সালে৷ এতে বলা হয়, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মৃত্যুহার সেই সময় ছিল প্রতি হাজারে ৪৫ জন৷ এই সংখ্যা ১৯৭৯ সালে ২০২ জন এবং ২০০৬ সালে ৬৫ জন ছিল বলে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এর এক প্রবন্ধে বলা হয়েছে৷

জন্মনিয়ন্ত্রণে সাফল্য
বিশ্ব ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে নারীদের সন্তান জন্মদানের হার ১৯৭১ সালে ছয় দশমিক নয় থেকে ২০১৭ সালে দুই দশমিক শূন্য ছয়ে নেমে এসেছে৷ এই হার প্রায় ইউরোপের সমান উল্লেখ করে জন্মনিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ আফ্রিকার জন্য রোল মডেল হতে পারে বলে গতবছর মন্তব্য করেছিলেন জার্মান উন্নয়নমন্ত্রী গ্যার্ড ম্যুলার৷

খরচ বাড়ছে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যের পেছনে ১০০ টাকা খরচ হলে সরকারি সহায়তা পাওয়া যায় ২৮ টাকা এবং বাকি ৭২ টাকা রোগীকে বহন করতে হয়৷ ২০১২ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০১২-২০৩২ সাল মেয়াদি একটি কৌশলপত্র তৈরি করেছিল৷ সেখানে ব্যক্তিগত খরচ ৩২ টাকায় (তখন ছিল ৬৪ টাকা) নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়৷ অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে ৬৪ থেকে ৩২-এ নামার লক্ষ্য থাকলেও উলটো সেটি বেড়ে ৭২ টাকা হয়েছে৷

সবার জন্য স্বাস্থ্যবিমা এখনও নেই
সরকার স্বাস্থ্য বিমা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে গতবছর ১৯ জুন সংসদকে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ এর অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর, ঘাটাইল ও কালিহাতি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্য বিমা কার্যক্রম চলছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি৷

বেশিরভাগ রোগী এমবিবিএস ডাক্তারের কাছে যান না
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১৬ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ২০১৯ সালের জুনে৷ এতে দেখা গেছে, ৫৮ শতাংশ রোগী ওষুধের দোকানদার, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক, হাকিম-কবিরাজ, ওঝা, পীর, বৈদ্যসহ অন্যদের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন৷ ১৬ শতাংশ যান সরকারের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে৷ বাকি ২৬ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে গিয়ে চিকিৎসা নেন৷

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালের ডিউটির চেয়ে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখতে কেন স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?

এই কথাটাও সত্য নয়৷ কোভিডের সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন৷ কারণ ওই চেম্বার থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক বেশি ছিল৷ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রাইভেট চেম্বার কেন করেন? এই প্রশ্ন যদি করেন তাহলে বলবো, ১০ থেকে ১৫ বছর পড়াশোনা করে অসংখ্য প্রশিক্ষণের পর তিনি সরকারি চাকরিতে গ্রেড-৩ এর উপরে যেতে পারেন না৷ অর্থাৎ তার সরকারি চাকরির যে সীমানা সেটা সমসাময়িক অন্যান্য চাকরিজীবীদের চেয়ে নিচে ৷ আপনি আমাকে বলেন, সমপরিমাণ যোগ্যতা ও পদ থাকার পরও কেন একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে সরকার গাড়ি দেয় না৷ অথচ একজন উপ-সচিবকে দেয়৷

করোনার প্রেক্ষাপটে আমাদের হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা খাতে কি ধরনের অব্যবস্থাপনা ছিলো?

এটা একটা বৈশ্বিক মহামারী৷ এই মহামারি থেকে আমাদের যত আগে বের হয়ে আসতে পারবো তত আগেই সেটা করা উচিৎ ছিলো৷ সেই লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করার দরকার ছিলো৷ আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু দীর্ঘসূত্রিতা দেখেছি৷ অনেক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমাদের মনে হয়েছে, এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়ে গেছে৷ সিদ্ধান্ত এসেছে, কিন্তু তার থেকে যে সুফল পাওয়ার দরকার ছিলো সেটা আমরা পুরোপুরি পাইনি৷ আরেকটা হলো, এই বৈশ্বিক মহামারীকে নিয়ন্ত্রণ করতে যে সচেতনতার দরকার ছিলো তা সৃষ্টির ক্ষেত্রে আমরা সফল হইনি৷

সামনে কি করা উচিত, আপনার পরামর্শ কী?

সামনের দিনগুলোতে করোনা রোগটিকে মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজনে কারফিউ, প্রয়োজনে চূড়ান্ত লকডাউন দেওয়া প্রয়োজন৷ পাশাপাশি টেস্ট বাড়িয়ে একটা মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দেওয়া৷ ১০০ দিন বা ১২০ দিনের পরিকল্পনা করে এর মধ্যেই বাংলাদেশকে করোনা মুক্ত করার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়া৷ দ্বিতীয়, আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা যদি অর্থনীতি বাঁচাতে চাই তাহলে এই রোগটিকে দূর করতেই হবে৷ সমাজে করোনা থাকা অবস্থায় লোকজন বিনিয়োগ করবে না, দোকান খুললে সেখানে ক্রেতা যাবে না- এমন একটি সমস্যা থেকে যাবে৷ অর্থনীতির চাকা ঘুরবে না, যদি মানুষ সুস্থ না থাকে৷ করোনা যদি অনেক ছড়িয়ে যায় তাহলে যতই আমরা দোকান পাট, রাস্তাঘাট খুলে দেই না কেন আমাদের অর্থনীতি কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে না৷ এই কারণে আগে করোনা দূর করতে হবে, নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তাহলেই কেবল অর্থনীতি তার গতি ফিরে পাবে৷

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post লকডাউন নিয়ে যত বিভ্রান্তি, আপস ও জোনিং ম্যাপের কাজ চলছে – স্বাস্থ্য অধিদফতর
Next post সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন করোনায় আক্রান্ত