‘সাহারা খাতুন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক’ – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

0 0
Read Time:14 Minute, 1 Second

দ্যা ডেইলি নিউজ | রাজনীতি: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাহারা খাতুনের ‍মৃত্যুকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, বিশেষ করে নারী রাজনীতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে অভিহিত করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাহারা খাতুন। তার মৃত্যুতে আরও শোক জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াসহ অন্যরা।

শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, সাহারা খাতুন ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা । বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে তিনি গণতন্ত্রের বিকাশসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে অপরিসীম অবদান রেখেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিককে হারালো।

গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোকবার্তায় বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে সাহারা খাতুন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন কাজ করে গেছেন। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সবসময় আইনি সহায়তা ছাড়াও সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে গেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন দক্ষ নারী নেত্রী এবং সৎ জননেতাকে হারালো। আমি হারালাম একজন পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদরাও শোক জানিয়েছেন।

তারা বলছেন, সাহারা খাতুন ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ। সবসময় নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে তিনি আজীবন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে লড়াই করে গেছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন।

সাবেক এই মন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক এক শোকবার্তায় বলেন, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে সারাজীবন রাজনীতি করে গেছেন। একজন নারী হিসেবে যেভাবে তিনি রাজনীতি করেছেন এবং রাজনীতিতে অবদান রেখেছেন, তা যেকোনো নারীর জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। এলাকার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত জননেতা। নেতাকর্মীরাও যেকোনো প্রয়োজনে সাহায্য-সহযোগিতার জন্য তাকে আজীবন মনে রাখবে।

গোলাম দস্তগীর গাজী আরও বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যথিত ও মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমি নারায়ণগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে তার পরিবার-পরিজনসহ সবাইকে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শোকবার্তায় তিনি বলেন, সাহারা খাতুন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সামনে রেখে মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। রাজপথের সব আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রণী।

গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, দলের নেতাকর্মীদের জন্য সবসময় সাহারা খাতুনের বাড়ির দরজা খোলা ছিল। তিনি যেভাবে মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে রাজনীতি করতেন, তা অনুসরণীয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল শোকবার্তায় বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মানুষের জন্য আজীবন রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করে গেছেন সাহারা খাতুন।

গভীর শোক ও দুঃখ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ ড. হাছান মাহমুদ তার শোকবার্তায় মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তিকামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সর্বদা অটল ছিলেন সাহারা খাতুন। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে সবসময় মনে রাখবে।

শোকবার্তায় আওয়ামী লীগের  উপদেষ্টা পরিষদের  সদস্য, ১৪ দলের মন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির  হোসেন আমু বলেন, সাহারা  খাতুন  দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের অন্যতম। তার মৃত্যু জাতীয় রাজনীতির অপূরণীয় ক্ষতি। মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে আরও শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামালসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। শোকবার্তায় তারা বলেন, সাহারা খাতুন ছিলেন কল্যাণমূলক রাজনীতির অগ্রদূত, একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ ও নীতি আদর্শের প্রতীক। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ছিলেন সৎ, নিষ্ঠাবান ও জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব।

সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে আরও শোক জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম।

শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ অন্যরা।


এদিকে, আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান জানিয়েছেন, সাহারা খাতুনের মরদেহ দেশে নিয়ে আসা হবে। জানাজা ও দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে জানানো হবে।

শারীকিভাবে অসুস্থ বোধ করায় গত ২ জুন দিবাগত রাতে সাহারা খাতুনকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় কোভিড নেগেটিভ এলেও লিভারসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে তার।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ১৯ জুন ওই হাসপাতালেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। এরপর আর সেখানে শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি দেখা যায়নি তার। এর মধ্যে আইসিইউতে রেখেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে সাহারা খাতুনকে থাইল্যান্ডে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

গত সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দেশটিতে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানেও চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সাহারা খাতুন।


সাহারা ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা-মাতা হলেন যথাক্রমে, আব্দুল আজিজ ও টুরজান নেসা।

তিনি বি.এ এবং এল.এল. বি ডিগ্রী আর্জন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক।

এছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক মহিলা আইনজীবী সমিতি ও আন্তর্জাতিক মহিলা জোটের সদস্য। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে একজন আইনজীবী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন।


সাহারা খাতুন ছাত্র জীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য | তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মহিলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সাধারণ নির্বাচন, ২০০৮ এর সময়, সাহারা খাতুন আবারো গ্রেফতার হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে।

তিনি হলেন কল্যাণমূলক রাজনীতির অগ্রদূত ও শেখ হাসিনার প্রিয় ব্যক্তি।তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সাহারা নিজে রাজনৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছিলেন।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০০৮ এর নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৮ হতে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আনন্দিত হয়ে জনগণকে তার দেয়া প্রতিশ্রুতি; সড়ক পুননির্মাণ ও ড্রেন সংস্করণের কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন। বিজয় লাভ করার পর তিনি বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মনোনীত হন।

তিনি ৬ ই জানুয়ারি ২০০৯ সালে তার দফতরে প্রবেশ করেন। ২০১২ সালে মন্ত্রণালয়ের রদবদল ঘটলে তিনি বাংলাদেশ সরকার এর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন আর নেই
Next post নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের ডিজি হলেন সেই ‘ভিআইপি’