সাবেক স্বাস্থ্য সচিবের নির্দেশে রিজেন্টের সাথে চুক্তি: ডিজি হেলথ

0 0
Read Time:6 Minute, 44 Second

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সাবেক সচিব আসাদুল ইসলামের মৌখিক নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতর চুক্তি করেছিল বলে জানিয়েছেন অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। রিজেন্ট ইস্যুতে মন্ত্রণালয়ের ‘শোকজ’ নোটিশের জবাবে এ কথা লিখেছেন মহাপরিচালক।

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নানের কাছে এই ব্যাখার লিখিত কপি জমা দেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা সাবেক স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলাম বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব হিসেবে কর্মরত।

মহাপরিচালকের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তির লিখিত আদেশ এই ব্যাখ্যার সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে কি না। তিনি লিখিত জবাব দিয়েছেন, আমরা সেটি পেয়েছি। সেখানে জানানো হয়েছে, চুক্তি করা হয়েছিল সাবেক স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলামের মৌখিক নির্দেশে।

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, মহাপরিচালকের জবাবের সঙ্গে তিনি অনেক কাগজ সংযুক্তি দিয়েছেন। সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। তার কাছে যা জানতে চেয়েছি, সেগুলো তার জবাবে আছে কি না— তা আমরা পর্যালোচনা করে দেখব। জবাবে সন্তুষ্ট হলেও আমরা লিখিতভাবে জানাব, সন্তুষ্ট না হলে ব্যবস্থা নেব— সবই আমরা গণমাধ্যমে জানাব।

এর আগে, গত রোববার (১২ জুলাই) লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকলেও রিজেন্ট হাসপাতালকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি হেলথ) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে ‘শোকজ’ নোটিশ পাঠায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে’ রিজেন্টকে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে অধিদফতরের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হয় নোটিশে। এর জন্য সময় দেওয়া হয় তিন দিন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছিল, রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি বিষয়ে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তি মন্ত্রণালয়ের চোখে পড়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্বাস্থ্য অধিদফতর রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করেছে।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, কোনো হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির আগে তা সরেজমিনে পরির্দশন, হাসপাতাল পরিচালনায় অনুমতি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, জনবল ও ল্যাব ফ্যাসিলিটিজ ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে উপযুক্ততা বিবেচিত হলেই কোভিড পরীক্ষা/চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চুক্তি করার সুযোগ রয়েছে। রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির আগে কী কী বিষয় বিবেচনা করা হয়েছিল, চুক্তি করার পর ওইসব শর্তগুলো প্রতিপালনে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল— এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

‘মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা’ বলতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে কী বোঝানো হয়েছে— এ বিষয়েও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে অনুরোধ করা হয়েছিল মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে।

এর আগে, শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. মো জাহাঙ্গীর কবিরের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মার্চে কোভিড-১৯ রোগী বেড়ে যেতে থাকলে রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঢাকার উত্তরা ও মিরপুরে অবস্থিত তাদের দুইটি শাখায় কোভিড ডেডিকেটেড হিসেবে চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করে। এসময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্বাস্থ্য অধিদফতর রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করে। তবে এর আগে ক্লিনিক দু’টি পরিদর্শন করে চিকিৎসার পরিবেশ উপযুক্ত দেখতে পেলেও তার লাইসেন্স নবায়ন ছিল না। লাইসেন্স নবায়নের শর্ত দিয়ে রিজেন্টের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হয় গত ২১ মার্চ।

রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে অধিদফতরের সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে অধিদফতরের অবস্থান ‘পরিষ্কার’ এবং একটি ‘ভালো কাজ করতে গিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রতারিত হয়েছে’ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ কারণে ৭ জুলাই হাসপাতালটির কাযর্কম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post দলীয় কমিটিতে সাহেদদের মত প্রতারক রাখবেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Next post স্থগিত লতিফ সিদ্দিকীর মামলা, ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *