১৯৯৯ সালের পর থেকে প্রলয়ঙ্করী সুপার সাইক্লোন মুখে বাংলাদেশ, আম্ফানের প্রভাবে শুরু হয়েছে ঝড়-বৃষ্টি

0 0
Read Time:8 Minute, 48 Second

দ্যা ডেইলি নিউজবাংলাদেশ/ ID/19 05 2020/TDNB/0016

প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের মুখে বাংলাদেশ, সাইক্লোন আম্ফানের প্রভাবে শুরু হয়েছে ঝড়বৃষ্টি । মূল কেন্দ্র থেকে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ থেকে ২৪৫ কিলোমিটার । ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে। এর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরার উপকূলে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

১৯৯৯ সালের পর থেকে বঙ্গোপসাগরে এটিই প্রথম কোনো সুপার সাইক্লোন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, এই সাইক্লোনের ফলে ভারী বর্ষণ, প্রচণ্ড বিপজ্জনক বাতাস ও জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

বৈশ্বিক ঝড় নির্ণয়ক সংস্থা আকুওয়েদার আম্ফানকে ১৯৯৯ সালের পরে বঙ্গোপসাগরে প্রথম সুপার সাইক্লোন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হয়ে এটি বাংলাদেশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতীয় উপকূলজুড়ে চরম আঘাত হানতে পারে।মঙ্গলবার আকুওয়েদারের আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস দেওয়া ব্যক্তি জেসন নিকোলস বলেন, ‘১৯৯৯ এর উড়িষ্যা সাইক্লোনের পরে আম্ফান বঙ্গোপসাগরে প্রথম সুপার সাইক্লোনিক ঝড়।’

মার্কিন যৌথ টাইফুন সতর্কতা কেন্দ্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে এ যাবতকাল পর্যন্ত রেকর্ডকৃত ঝড়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হয়ে উঠেছে আম্ফান।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

                                                                                                        সাগর উত্তাল রয়েছে। ছবি: ফোকাস বাংলা

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড় জনিত জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা: ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-১০ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে ঝড়ো বৃষ্টি শুরু হয়। তা ১৫ থেকে ২০ মিনিট স্থায়ী হয়ে আকাশ গুমোট হয়ে আছে। বৃষ্টির পর নদীতে পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি উত্তাল হয়ে উঠেছে সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলো।

এদিকে আম্ফানের প্রভাবে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, মুন্সিগঞ্জে, বুড়িগোয়ালীনি এলাকার মানুষ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবুজর গিফারী বলেন, আজ দুপুর ১টার দিকে ঝড়ো বৃষ্টি শুরু হয়ে ১৫-২০ মিনিট স্থায়ী হয়। এখন মাঝে মধ্যে টিপ টিপ করে বৃষ্টি হচ্ছে হচ্ছে। তবে বাতাস হচ্ছে। নদী উত্তাল, পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টির কারণে গাবুরা থেকে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে একটু সমস্যা হচ্ছে। ইতোমধ্যে রমজাননগর ইউনিয়নের দ্বীপ অঞ্চল গোলাখালি এলাকা থেকে থেকে ৪০০ জনকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে গাবুরা ইউনিয়ন। সেখানের ৩০ হাজার মানুষের মধ্যে ১০ হাজার মানুষকে নদী পার করে শ্যামনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাকি ২০ হাজার মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা সম্ভব। ইতোমধ্যে ৫০০ জনকে শ্যামনগর আনা হয়েছে এবং ২ হাজার ৫০০ মানুষকে মাইকিং করে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে।

হাতিয়ায় মাইকিং করে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছে

পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ১ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। এসব এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে ৫০টি বাস ও ১০০টি ট্রলার প্রস্তুত রাখা আছে। আজ সন্ধ্যার মধ্যে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান সম্পর্কে দুপুর ১২টার বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলের ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করায় মোংল বন্দরসহ সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মূল কেন্দ্র থেকে এটার গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ থেকে ২৪৫ কিলোমিটার। সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত হানতে পারে বুধবার (২০ মে) ভোর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকার মৃদু প্রভাব শুরু হয়েছে। শহর এলাকায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে হালকা বাতাস শুরু হয়েছে। এক মিলিটিররের কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

                     কুয়াকাটা সৈকত পাড়ে গড়ে ওঠা এসব বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ছবি: ফোকাস বাংলা

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে জেলা প্রশানের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় লাল পতাকা উঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনসহ প্রতিটি উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে আগতদের জন্য স্যানিটাইজার ও মাস্কের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জ্বর, সর্দি, কাশি থাকলে তাদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হবে। একইসঙ্গে প্রত্যেক ইউনিয়নে মেডিকেল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও খাওয়ার পানি মজুদ রাখা, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ শুরু করে দিয়েছে।

জেলেদের জন্য সতর্কতা: উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %