বাংলাদেশ-চায়না কোম্পানি গঠনে চুক্তি

0 0
Read Time:8 Minute, 45 Second

সৌর ও বায়ু শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ‘বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড (রিনিউএবল)’ নামে কোম্পানি গঠনে চীন ও বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠান চুক্তি করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হন এবং বক্তব্য দেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিউপিজিসিএল) এবং চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) মধ্যে জয়েন্ট ভেঞ্চার অ্যাগ্রিমেন্ট (জেভিএ) স্বাক্ষরিত হয়।

এতে বলা হয়, সরকারি মালিকানাধীন নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড এবং চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লি. শিরোনামে জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি (জেভিসি) গঠনের জন্য গত বছরের ২৭ আগস্ট একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পরে গত ৮ জুন জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদিত হয়। যেখানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ করে শেয়ার রয়েছে। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন এক হাজার কোটি টাকা। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১৬ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভিত্তিক ডিস্ট্রিবিউটেড জেনারেশনকে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে নেট মিটারিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সচিব সুলতান আহমেদের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এম খোরশেদুল আলম এবং সিএমসি চেয়ারম্যান রুয়ান গুয়াং বক্তব্য রাখেন।


সৌর ও বায়ুশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড (রিনিউঅ্যাবল) নামে কোম্পানি গঠন হচ্ছে। গত ৮ জুন এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ অনুমোদনের কথা জানান।

তিনি বলেন, বৈঠকে সরকারি মালিকানাধীন নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড এবং চীনের ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড (রিনিউঅ্যাবল)’ নামে কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব এবং এ সংশ্লিষ্ট জয়েন্ট ভেঞ্চার এগ্রিমেন্ট, মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন এবং আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন-এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অভ্যন্তরীণ ও আমদানিকৃত কয়লা, তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, পরমাণু শক্তি ইত্যাদির সঙ্গে সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নের জন্য সরকারি মালিকানাধীন নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড এবং চায়না ন্যাশনাল ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড (রিনিউঅ্যাবল)’ নামে কোম্পানি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

গত বছরের ২৭ আগস্ট উভয় কোম্পানির মধ্যে একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি গঠনের ক্ষেত্রে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার ৫০ শতাংশ এবং চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের শেয়ার ৫০ শতাংশ।

minis-01.jpg

জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এটি একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সৌর ও বায়ুশক্তি) ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি হবে। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১৬ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির শেয়ার ৫০ শতাংশ, যা আট কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের শেয়ার ৫০ শতাংশ, যা আট কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, এ কোম্পানির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সৌর ও বায়ুশক্তি) ব্যবহার করে ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ফলে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনকল্পে বাংলাদেশ সরকার প্রণীত নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা অনুযায়ী গৃহীত লক্ষ্যমাত্রার অর্জনের পথ সুগম হবে।

জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাস করা সম্ভব হবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %