কোভিড মেডিকেল টেক্সটাইল বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করেছে : পরিকল্পনামন্ত্রী

0 0
Read Time:9 Minute, 9 Second

(বাসস) : পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, কোভিড-১৯ অতিমারি বাংলাদেশের জন্য পিপিই ও মাস্কের মত মেডিকেল টেক্সটাইলে রফতানি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিশেষ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তিনি বেসরকারিখাতের উদ্যোক্তাদের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহবান জানান।

শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনার সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিল্ড চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খান, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ,চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, ডিসিসিআই সাবেক সভাপতি রাশেদ মাকসুদ খান, হোসেন খালেদ, এমএইচ রহমান, আফতাব-উল ইসলাম, বেনজীর আহমেদ, সাইফুল ইসলাম ও মো. সবুর খান বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি শামস মাহমুদ।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এবারের বাজেট অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ব্যবসাবান্ধব। বাজেটে কর্পোরেট কর ও ব্যাক্তি কর রেয়াতসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আপনারা আরো সুযোগ পাবেন। তিনি কোভিড পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ও বেসরকারিখাতকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের অবকাঠামোখাতের উন্নয়নে বেসরকারিখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমাদেরও সেদিকে যেতে হবে। তিনি দেশে যোগাযোগ,বিদ্যুৎ ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য অবকাঠামোখাতের উন্নয়নে বেসরকারিখাতের উদ্যোক্তাদের বড় বিনিয়োগ নিয়ে আসার আহবান জানান।

পরিকল্পনামন্ত্রী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ব্যাংকিং খাতে আরো ডিজিটাইলাইজেশন এখন সময়ের দাবী। তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের জনগনের ব্যাংক হিসাব না থাকায় সরকার করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সবার কাছে নগদ আর্থিক সহায়তা পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ সম্পর্কে প্রথমদিকে ধারণা না থাকায় স্বাস্থ্যখাত কিছুটা অগোছালো ছিল, তবে সময়ের ব্যবধানে আমরা সেটা কাটিয়ে উঠেছি। এখন আমরা প্রস্তুত।

তিনি জানান,আশিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হলে,বাংলাদেশকে আশিয়ানের পর্যবেক্ষক মর্যাদা অর্জন করতে হবে। তিনি প্রতিবেশি দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

মান্নান বলেন, কোন অসাধু ব্যক্তির অসৎ কাজের জন্য দেশ-বিদেশে ইমেজ যেন নষ্ট না হয়, সে দিকে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কেবল সরকার নয়, বেসরকারিখাতকেও আরো মনোযোগি হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ কোভিড পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন এবং অর্থনীতির ২০টি খাতের বর্তমান অবস্থা ও এর উন্নয়নে সুপারিশ দেন।

তিনি বলেন,চলমান কোভিড অতিমারি পরিস্থিতিতে জীবন-জীবিকার চাকা সচল রাখতে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। তাই কোভিড-উত্তর অর্থনৈতিক পুণঃউদ্ধার প্রক্রিয়ায় সরকারের যথাযথ নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার সঠিক ব্যবহার একান্ত অপরিহার্য।

তিনি রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য উৎসে কর কমিয়ে শুন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। চীন থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে সুনিদিষ্ট রোডম্যাপ ও কৌশল এখনই নেয়া জরুরী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি জানান, গত অর্থবছরে রফতানি আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি ফিরে পাওয়া,অশুল্ক বাধা দূর ও সম্ভাবনাময় অংশীদারদের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, কোভিডের কারণে এমএসএমই খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ব্যাংক হতে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় তারা ঋণ পাচেছ না, এ অবস্থা উত্তরণে স্বল সুদে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম ও রিফাইন্যান্সিং স্কিম আরো বেশি হারে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, কোভিডের ফলে বৈশি^ক চাহিদা ও সাপ্লাই দুটোই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তিনি অর্থনীতির এ অবস্থা উত্তরণে স্বল ও মধ্য মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। এছাড়াও তিনি কর্পোরেট কর, টার্ণওভার কর প্রভৃতি কমানোর প্রস্তাব করেন এবং কোম্পানী আইন যুগোপযোগি করার ওপর গুরুপত্বারোপ। তিনি কোভিড মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সমূহের সংষ্কার ও বন্ড মার্কেট আরো কার্যকরের উপর জোরারোপ করেন।

আবুল কাসেম খান বলেন,দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরো বাড়ানোর জন্য আমাদের অবশ্যই সহায়ক করা কাঠামা থাকতে হবে, যা কিনা এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে উদাহরণ তৈরি করবে। তিনি সরকার ঘোষিত প্রণোদনার প্যাকেজ হতে বিশেষ করে এসএমই খাতের উদ্যোক্তাবৃন্দ যেন ঋণ সহায়তা পেতে পারেন, সে ব্যাপারে সরকারের আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আশিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ়করণ এবং বিভিন্ন দেশগুলোর সাথে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তিগুলো আরো কার্যকরের প্রস্তাব করেন।

হোসেন খালেদ বলেন, ব্যাংক খাত হতে সরকারের বেশিমাত্রায় ঋণ নেওয়ার প্রবনতা বেসরকারীখাতে ঋণ প্রবাহকে কমিয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, শিল্পখাত বর্তমান কর্মসংস্থান ধরে রাখার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং এ অবস্থা মোকাবেলায় ব্যাংক ও বেসরকারিখাতকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

আসিফ ইব্রাহীম দেশের বন্ড মার্কেট আরো কার্যকর করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পসমূহে অর্থায়ন নিশ্চিতকল্পে সেগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার প্রস্তাব করেন।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %