বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মুসলমানদের ঈদ-উল-ফিতর ধর্মীয় উৎসব পালন বিঘ্নিত, মসজিদে মসজিদে নামাজ পালিত

0 0
Read Time:8 Minute, 46 Second

দ্যা ডেইলি নিউজ / ID/25 05 2020/TDNB/0037       |         12:23:55 PM

করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর – এর নামাজ পালিত মসজিদে মসজিদে, বিঘ্নিত

এর আগে রবিবার সন্ধ্যায়, ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে ঘরে থেকে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান। সাথে সব ধরণের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “এ বছর আমরা সশরীরে পরস্পরের সাথে মিলিত হতে বা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে না পারলেও টেলিফোন বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেব”।

ফলে, মসজিদগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের নামাজ । তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদের আয়োজন ভিন্ন।

বাংলাদেশে ভেদাভেদ ভুলে ঈদের জামাতের পর কোলাকুলি আর স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে বেড়ানোর মধ্য দিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির রেওয়াজ থাকলেও এবছর থাকছে না তেমন কোন আয়োজন।

নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল ফিতরের জামাত।

মসজিদ বায়তুল মোকাররমে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ দূরত্বের পাশাপাশি মসজিদ নেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা

রাজধানী ঢাকার মিরপুর এবং আশেপাশের এলাকাগুলোর বেশ কয়েকটি মসজিদে দেখা যায় যে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মসজিদের ভেতরে জায়গা না হওয়ার কারণে অনেকেই রাস্তায় বসে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

কাউকে কোলাকুলি করতে দেখা যায়নি। প্রায় সবাই মাস্ক ব্যবহার করছেন।

তবে একটি জামাত শেষে অন্য আরেকটি জামাতের জন্য মুসল্লিদের মসজিদ থেকে বের হওয়া এবং প্রবেশের সময় বেশ ভিড় তৈরি হতে দেখা গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জেঃ

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জেও মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা। জেলার ২ হাজার ৪৯১টি মসজিদে একাধিক জামায়াতের মাধ্যমে তারা আদায় করেন ঈদুল ফিতরের নামাজ।

এর মধ্যে জেলার সদর উপজেলায় ৭২৩, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৭১৪, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৪৬৯, নাচোল উপজেলায় ৩৭৬টি এবং ভোলাহাট উপজেলায় ২০৯টি জামে মসজিদ ও ওয়াক্তিয়া মসজিদকে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কোর্ট জামে মসজিদে ৩টি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামায়াত সকাল সাড়ে ৭টায়, দ্বিতীয়টি সকাল সাড়ে ৮ টায় এবং তৃতীয়টি সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় ।

রাজশাহীঃ

রাজশাহীতে সোমবার (২৫ মে) ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে চলমান করোনা মহামারি থেকে সবাইকে পরিত্রাণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জীবনের সব পাপ মোচন, এক মাসের সিয়াম সাধনা কবুল ও নাজাতের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এবার সরকারি নির্দেশনা মেনে রাজশাহীতেও মসজিদের ঈদের জামাত আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রামঃ

করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবছর আদায় হলো চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম বড় ঈদ জামাত।

 

 

ঈদুল ফিতরের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো একে অন্যের সাথে কোলাকুলি করা। কিন্তু মহামারী করোনার কারণে এবার একে অন্যের সাথে কোলাকুলি করা ছাড়া মসজিদ থেকে বিদায় নেন মুসুল্লিরা। ছবিটি আন্দরকিল্লাহ শাহী মসজিদ থেকে তোলা।

বরিশালেঃ

বরিশালে সরকারি নির্দেশনা অনুসারে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের জামাত।

বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নগরের কালেক্টরেট জামে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করেন।

সোমবার সকাল ৮টায় কালেক্টরেট মসজিদের ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদে ঢোকার

আগ মুহূর্তে মুসল্লিদের জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়, দেওয়া হয় হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

আলহাজ হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রথম জামাতে ইমামতি করেন। তিনিসহ সব মুসল্লিরা মাস্ক পরেছিলেন।

এছাড়া নগরের বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে করোনার প্রভাবে এবার ঈদের জামাতে মুসল্লিদের সংখ্যা ছিলো অন্যান্য যেকোনো বছরের থেকে তুলনামূলক অনেক কম। নগরেরর চকবাজারের এবায়েদুল্লাহ জামে মসজিদে ঈদের চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নগরের অন্যান্য মসজিদে কোথাও তিনটি ও কোথাও দুইটি করে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে করোনা থেকে রক্ষার জন্য দেশবাসী ও বিশ্ববাসীর জন্য দোয়া মোনাজাত করা হয়।’

এছাড়া, সিলেট, রংপুর, ময়মংসিংসহ প্রায় দেশের সকল জায়গায় মসজিদে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের নামাজ । 

এর আগে ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেসব নির্দেশনা মানার পরামর্শ দেয় সেগুলো হচ্ছে,

  • সব ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে
  • কমপক্ষে ৩ ফুট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামাতে অংশ নিতে হবে
  • ঈদের কোলাকুলি থেকে বিরত থাকতে হবে
  • ঈদের আনন্দ উচ্ছলতার কারণে শিশুরা যাতে ঝুঁকির মুখে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে
  • অবশ্যই শিশুসহ সবাইকে নিয়মিত মুখে মাস্ক পড়তে হবে
  • বাইরে থেকে ঘরে ফিরে সাবান-পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে
  • বাইরের খোলা খাবার খাওয়া যাবে না
  • নিজের হাতের প্রতি সজাগ থাকতে হবে। অযথা নাক-মুখ-চোখে হাত দেয়া যাবে না। শিশুদের এ বিষয়ে সতর্ক করতে হবে।
  • যারা এরই মধ্যে আক্রান্ত তাদেরকে আইসোলেশনের নিয়ম পালন করতে হবে।
  • পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। পানি ও তরল খাবার বেশি খেতে হবে।
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন লেবু, কমলা, মাল্টা, পেয়ারা ও টাটকা শাকসবজি বেশি করে খেতে হবে।
  • জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মাংস, কুমড়ো ও লাউয়ের বীজ, মাশরুম, রসুন, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার বেশি খেতে হবে।
  • হালকা ব্যায়াম করতে হবে।
Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *