টেস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে ৪ গুণ – কেজরীবাল, ভারতে শনাক্ত রোগী ৫ লাখ ছাড়াল

0 0
Read Time:6 Minute, 55 Second

দ্যা ডেইলি নিউজ / ID/27 06 2020/TDNB/000152

কোভিড টেস্টের সংখ্যা চার গুণ বাড়িয়েছে দিল্লি। শুক্রবার দিনে ২১ হাজার ১৪৪টি করে টেস্ট হয়েছে।

শনিবার এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল। টুইট করে এ দিন তিনি  বলেন, “ব্যাপক হারে কোভিড টেস্টের উপর জোর দিয়েছে দিল্লি সরকার। ব্যবস্থা করা হচ্ছে আইসোলেশনরও।”

অন্য দিকে, করোনার মোকাবিলার জন্য আজ, শনিবার থেকে সেরোলজিক্যাল সার্ভের শুরু হয়েছে সেখানে। চলবে ১০ জুলাই পর্যন্ত।

দিল্লি সরকার এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল (এনসিডিসি)-এর যৌথ উদ্যোগে এই সমীক্ষা চলছে। সংক্রমণ ঠেকাতে আরও কী কী পদক্ষেপ করা প্রয়োজন এই সমীক্ষার মাধ্যমে ঠিক করা হবে বলে সরকারি সূত্রে খবর।

দেশে করোনা সংক্রমণের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দিল্লি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী দিল্লিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৭ হাজার ২৪০।

প্রতি দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। মৃত্যুও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। দিল্লির এই ভয়াবহ পরিস্থিতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। সংক্রমণের মোটের উপর চিত্রটা কী এবং কোন দিকে তা মোড় নিতে চলেছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে জানতেই দিল্লিতে সেরোলজিক্যাল সার্ভের ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্র।

দিল্লির প্রতিটি জেলায় ২০ হাজার করে কোভিড টেস্ট করা হবে। জেলার ডেপুটি কমিশনাররা পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করবেন।

দিল্লিতে কনটেনমেন্ট জোনের সংখ্যাও বাড়ছে। আগামী দিনে এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

তাই ছোট ছোট এলাকায় ভাগ করে পর্যবেক্ষণের কাজ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেজরীবাল সরকার। কয়েক দিন আগেই কেজরী ঘোষণা করেছিলেন, সংক্রমণ বৃদ্ধির হারের দিকে নজর রেখেই দিল্লিতে করোনা টেস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে তিন গুণ। প্রতি দিন ১৮ হাজার টেস্ট করা হচ্ছে। 


শতকোটিরও বেশি মানুষের দেশটিতে এভাবেই হু হু করে বাড়ছে কোভিড-১৯ রোগী। লম্বা হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলও।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে আরও ১৮ হাজার ৫৫২ জনের দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আগের ২৪ ঘণ্টাতেও এ সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ২৯৬।

লকডাউন শিথিলের পর থেকে দেশটিতে প্রতিদিনই শনাক্ত রোগী আগের দিনের রেকর্ড টপকাচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশটিতে এখন সরকারি হিসাবেই কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ৮ হাজার ৯৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। 

নতুন আরও ৩৮৪ জনের মৃত্যু নিয়ে ভারতে নতুন করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১৫ হাজার ৬৮৫ তে।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, ৩০ জানুয়ারি কেরালায় প্রথম চীনের উহানফেরত এক ব্যক্তির দেহে কোভিড-১৯ মেলে। এরপর শনাক্ত রোগী এক লাখে পৌঁছায় মে’র মাঝামাঝি।

মার্চের শেষে দেশটির সরকারের দেয়া কঠোর লকডাউনের কারণে সংক্রমণের গতি শ্লথ হয়ে পড়ায় ভারতের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরাও সন্তুষ্ট ছিলেন।

কিন্তু লকডাউন শিথিল হওয়ার পরই সব ওলট-পালট হয়ে যায়। শনাক্ত রোগী এক থেকে দুই লাখে পৌঁছায় ১৫ দিনে। দুই থেকে তিন লাখে ১০ দিন; তিন থেকে চারে ৮ দিন। আর শেষ এক লাখ যোগ হতে লাগল মাত্র ৬ দিন।

শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুতে ভারতের মধ্যে সবার উপরে আছে মহারাষ্ট্র। পশ্চিমাঞ্চলীয় এ রাজ্যটিতে মৃত্যুই ছাড়িয়েছে ৭ হাজার ১০০, শনাক্ত রোগী দেড় লাখের বেশি। রাজধানী দিল্লির অবস্থাও বেহাল।

গুজরাটে মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৪৯২ জনের। শনাক্ত রোগী ও মৃত্যু লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তামিল নাডু, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও মধ্যপ্রদেশেও।

নতুন ৫৪২ জন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ১৯০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যাও পৌঁছেছে ৬১৬ তে। 

কর্মকর্তারা বলছেন, সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আক্রান্ত রোগীর অর্ধেকেরও বেশি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরাটা তাদের স্বস্তি দিচ্ছে।

শুক্রবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আরও ১০ হাজার ২৪৪ কোভিড-১৯ রোগী সুস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা। এ নিয়ে ভারতে সরকারি হিসাবেই সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ৯৫ হাজার ছাড়িয়ে গেল, জানিয়েছে আনন্দবাজার। 

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *