বাংলাদেশে করোনার ভুয়া রিপোর্ট নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রতিবেদন

0 0
Read Time:5 Minute, 26 Second

দ্যা ডেইলি নিউজ | আন্তর্জাতিক: বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ভুয়া রিপোর্ট নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

যার হেডলাইন দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশে জমজমাট ব্যবসা: করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রি’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবাসী শ্রমিকদের কাছে ভুয়া করোনামুক্ত ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রি করেছে বাংলাদেশে একজন হাসপাতালের মালিক। এ ঘটনায় ছদ্মবেশে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ওই মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বোরাক পরে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ সাহেদের পালানোর চেষ্টা ও তার গ্রেফতারের কথা তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশের এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, মোহাম্মদ সাহেদ নামের ওই ব্যক্তির দীর্ঘ অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। পালানোর চেষ্টাকালে তিনি একটি কালো বোরকা পরেছিলেন, যা তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকেছিলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সাহেদের হাসপাতাল থেকে করোনা ভাইরাসের নকল সার্টিফিকেট বিক্রি করা হচ্ছিলো। যা হাজার হাজার ডলারে বিক্রি হয়।

অনেক অপরাধী চক্র এভাবে বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের টোপ ফেলে বহু জীবন হুমকির মধ্যে ফেলছে।

ইউরোপে কাজ করতে যেতে চাওয়া বাংলাদেশি এসব শ্রমিকদের কাছে এই ধরণের সার্টিফিকেটের চাহিদা রয়েছে। সম্প্রতি ইতালি এসেছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। তারা জানান, কাজে যোগ দেবার জন্য তাদের এই সার্টিফিকেট দেখানো প্রয়োজন ছিলো।

বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাল কোভিড-১৯ সনদ আমাদের দেশের ভাবমূর্তির জন্য একটি বিশাল আঘাত।

এমন হাজার হাজার ভুয়া সার্টিফিকেট বানানোর অভিযোগে আরো দু’জন চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এদের মতো অন্যদের খুঁজে বের করতে বিশেষ বাহিনী মাঠে নেমেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ হচ্ছে এশিয়ার অন্যতম দরিদ্র দেশ। কয়েক মিলিয়ন বাংলাদেশি বিদেশে কাজ করে, কোটি কোটি ডলার দেশে পাঠিয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখছে।

এই মহামারির সময় অনেক কর্মী বাংলাদেশে এসেছিলেন। তারা এখন বিদেশে চাকরি হারানোর পথে। তাই কাজ ফিরতে আগ্রহী ছিলেন।

তাদের পরীক্ষাগার থেকে আরো দুইজন ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর কয়েক হাজার জাল করোনা ভাইরাস সনদ বিক্রি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি সংকটজনক। ১৬০ মিলিয়ন মানুষের দেশটিতে দুই লাখ মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ায় করোনা আক্রান্তের ঢল থাকায় এবং বাংলাদেশে তুলনামূলক কম টেস্ট হওয়ায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, সরকারি ঘোষণার চেয়ে বাস্তবে আক্রান্তের হার অনেক বেশি।

ইতালির স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্তো স্পেরাঞ্জা জানান, বাংলাদেশ থেকে রোমে যাওয়া কমপক্ষে ৩৭ জন যাত্রীর করোনা পজিটিভ হওয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালি যাওয়া সব ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, সম্প্রতি ইতালি যাওয়া প্রায় ১৬০০ বাংলাদেশি ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে যাননি। তবে অনেকে সেখানে কোয়ারেন্টাইন মানেননি।

মিলানের একটি রেস্তোঁরায় কাজ করা এক বাংলাদেশি শ্রমিক তাহির হুসেন বলেছেন, ‘ইতালিয়ান সংবাদপত্রগুলো নিয়মিতভাবে বাংলাদেশিদের নিয়ে রিপোর্ট করে যাচ্ছে। ইতালির লোকজন আমাদের দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছে যেন আমরা সবাই করোনা আক্রান্ত।’

মিলান থেকে ফোনে নিউইয়র্ক টাইমসকে এসব কথা বলছেন ওই বাংলাদেশি প্রবাসী।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %